বাংলার নবজাগরণ, ও তার পরবর্তী সময়ে যখন ব্রাম্ভ ধর্মের জোয়ার আসে তখন একশ্রেণীর বাঙালীর মধ্যে পৌত্তলিকতার সরাসরি বিরোধিতা শুরু হয়। সংস্কারবিরোধী এই চিন্তা ভাবনা।
কালক্রমে হিন্দুধর্ম ও তার আচার বিরোধিতার রূপ নেয়। যদিও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সমাজ এর প্রভাব থেকে মুক্ত ছিল। কারণ সাধারণ বাঙালি কখনওই ধর্মকে তাদের যাপনের থেকে আলাদা করতে পারেনি। ধর্ম কখনই প্রবল, প্রচণ্ড রূপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত সমাজের উপর নেমে আসেনি। এখানে দেবী পুজিতা হন কন্যা রূপে; ধর্মীয় প্রবাদ, লোকাচার হয় যাত্রা, নাটক, কবিগান, সঙ্গীত ও সাহিত্যর বিষয়। কখনো ভৈরব শিব হয়ে ওঠেন পরম উপাস্য আবার আগমনী কিংবা পুরতনী গানে তাঁকেই রিক্ত, নেশাগ্রস্থ জামাই বলে অপমান করা হয়। যাইহোক, এবার আসি সে সময়ের এক গল্পে। অনেকেই অনুমান করেন এগল্পের শিল্পী কোনোএক রসিক ব্রাম্ভ। যজমানের বাড়ি পুজো সারতে যাছেন পুরুতমশাই। হটাৎই তাঁর মনে পরে তিনি শালগ্রাম শিলা আনতে ভুলে গেছেন। বাড়ির পথ অনেক দূরে ফেলে এসেছেন। এখন উপায়? আচমকাই একটা বুদ্ধি খেলে যায়ে পুরুতমশাই-এর মাথায়ে। পথের ধার থেকে একটা নুড়ি কুড়িয়ে থলিতে ভরে নেন। যথারীতি পুজো শুরু হয়। সিংহাসনে শোভা পায় শালগ্রাম ‘নুড়ি’। এরপরই ঘটে সেই আশ্চর্য ঘটনা। শালগ্রাম প্রাণ পেয়ে নড়তে থাকে। নাহ, চোখের ভুল নয়, শালগ্রাম সিংহাসন বেয়ে নীচে নামতে শুরু করে। আসলে সেটা শালগ্রাম তো ছিলই না, এমনকি কোন নুড়ি বা পাথরও ছিল না; ছিল একটা প্রমান সাইজের শামুক। তারপর পুরুত ও যজমানের মধ্যে কি হয়েছিল লোকমুখে তার কোন হদিস পাওয়া যায় না। শালগ্রাম শিলার কথাই যখন উঠল তখন দর্জি পাড়ার মিত্র বাড়ির কথা ভুলি কি করে? এখানে শালগ্রাম ধুতি পরে থাকেন। মাথায় সোনার মুকুট, এবং চোখ-নাক স্পষ্ট করে শিলার ওপর আঁকা। প্রায় ২০০ বছর আগে রাধাকৃষ্ণ মিত্র এবাড়িতে দুর্গা পুজোর প্রচলন করলেও তার ছেলে রাজকৃষ্ণ মিত্রের সময়ে এই পুজো পরিচিতি পায়। এক্সম্পোরট-ইম্পোরটের ব্যবসারও শ্রী বাড়ে ঐ একই সময়ে। তবে, এই বাড়ির মুল আকর্ষণ কিন্তু কালীপুজো। সাধারনতঃ বাস্তুগৃহে দক্ষিণাকালী পুজিতা হন। যেখানে দেবীর ডান পা থাকে মহাদেবের বুকের ওপর। কিন্তু ভুলবসতঃ মূর্তি তৈরির সময় উলটোটা বানানো হয়, দেবী হয়ে যান বামাকালী। সেই ভুল আর শোধরানো হয়নি। আজও দক্ষিণাকালীর নিয়ম মেনেই বামাকালী পুজিতা হন এই গৃহে। কালীপূজোর সময় ব্যবহৃত হয় ১০৮ টি নীল অপরাজিতা। সেই নিয়ম মেনে সন্ধিপুজোর সময়ও ১০৮ টি পদ্মের পরিবর্তে ১০৮ টি নীল অপরাজিতা দিয়ে দেবীপুজো সমাধা হয়।









No comments:
Post a Comment