![]() |
| In front of Adhar Lal Sen House |
কুমোরটুলি পার্ক থেকে আহিরীটোলা সার্বজনীন। আরও একটা গলিপথের শর্টকাট। ভিড় ছেড়ে যদি একটু দাঁড়াতে চান তবে পৌঁছে যেতে পারেন ৯৬ ও ৯৭ বি বেনিয়াটোলা স্ট্রীটে।
৯৬বি এই বাড়ির পুজোর প্রবর্তন করেন রামগোপাল সেন। ইনি পরম বৈষ্ণব ও ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন। আদি বাড়ি হুগলী জেলার সিঙুরে। রামগোপালের চার ছেলে; শ্যামলাল, মন্মথনাথ, কমলকৃষ্ণ এবং অধরলাল। সাবেকি বাড়ির এই পুজোয় প্রথম থেকেই নারীরা সর্বময়ী কর্ত্রী। পুজোয় দিন, আরতির সময় পৌঁছলে, দেখতে পাবেন সনাতনী গহনা ও পোশাকে সজ্জিত বাড়ির মেয়েদের কাঁসর ঘণ্টা বাজানো থেকে চামর দুলিয়ে বাতাস করা পর্যন্ত যাবতীয় কাজকর্মে। রামগোপাল বেশ আধুনিক মানুষ ছিলেন। বাড়ির ছেলেদের ইংরাজি শিক্ষা, মেয়েদের পরদা ছেড়ে পুজোয় পুজোর আনন্দে একসাথে মেলানর কাজটি তিনি সেরে ফেলেছিলেন বহু বছর আগে। তাইতো এ বাড়ির মহিলারা পুজোয় সাজানো থেকে শুরু করে সমস্ত কাজ প্রায় একা হাতে সামলান। এখানে দেবীকে রান্নাভোগ দেবার রীতি নেই। দেবী পুজো পান শুকনো চাল ও অন্যান্য ফলের ভোগেই।
এর ঠিক পাশেই, ৯৭বি, ‘অধরালয়’, অধরলাল সেনের নিজের বাড়ি। এখানে পুজো শুরু সেই ১৮৫৫ সাল থেকে। কথিত আছে, ১৮৮৩ ও ৮৪ এ ঠাকুর এই দুই বাটিতেই পুজো দেখতে এসেছিলেন। সেই স্মৃতি অমলিন রাখতে বাড়ির দেওয়ালে খচিত আছে, “শ্রীরামকৃষ্ণ পদাঙ্কিত ভক্ত অধরলাল সেনের বাড়ি”। এই বাড়ির পুজো আগের বাড়ির অনুরূপ। পুজোর চার দিন নিরামিষ ভোগ হলেও, নিয়মকরে দশমীর দিন আমিষ রান্না হয় এ বাড়িতে। তবে আমিষ শুধু বাড়ির ছেলেদের জন্য।
![]() |
| Durga mandap |
![]() |
| Thakurdalan |
![]() |
| Corridor |
অধরলাল ডেপুটি ম্যজিস্টেট ছিলেন। সেই সুত্রে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র এসেছিলেন এই বাড়িতে।
সাহিত্যসম্রাট নামে পরিচিত বঙ্গভুমে
অধরের সতীর্থ একজন।
চাটুজ্যে বঙ্কিমচন্দ্র মিতভাষী নম্রভদ্র
এখানে প্রভুর আলাপন।।
ঈষৎ প্রগলভ কথা প্রানে তাঁর দিল ব্যথা
মৃদু তিরস্কার বানী তাই।
শোধন করিয়া দিল মনে যত ভ্রান্তি ছিল
বেনিয়াটোলার এই ঠাই।।
ঠাকুরের সাথে এসেছিলেন স্বামীজিও। সেকালের বনেদি পুজ মানেই নাচ, গান, বাজনা, আড্ডা সবকিছু মিলিয়ে একটা গ্র্যান্ড উৎসব। একবার পুজোয় স্বামীজিকে গান গাইবার অনুরধ করা হয়। শোনা যায় নাকি ২৭ গান গাইয়ে তবে থামতে দেওয়া হয়েছিল সেকালের নরেন দত্তকে।
শ্রীযুক্ত অধরসেন বহুভাগ্য করেছেন
ভগবান এই গৃহে এল।
অন্তরঙ্গ সমাগমে নৃত্যগীত উদ্দামে
আনন্দ উৎসব কত হল।।
ইতিহাস বিস্মৃত এই বাড়ি, “অধরালয়”, যার নামে সেই অধরলাল সেন ছিলেন একাধারে ঠাকুর রামকৃষ্ণের পরম স্নেহধন্য ও প্রতিভাধর এক পুরুষ। মাত্র উনিশ বছরে লিকে ফেলেছিলেন দু-দুটি বই। ২৪এ ডেপুটি ম্যজিস্টেট হন। মাত্র তিরিশ বছর বয়সে ঘোড়া থেকে পরে গিয়ে অকালে মারা যান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের এই ‘মেম্বার অফ ফ্যাকাল্টি’।
“বিধির বিধান এই রুধিবে মানুষ কই
প্রাণ গেল অশ্ম চরিবারে।।
শ্রীরামকৃষ্ণ পদধুলি ধন্যগৃহাঙ্গন গুলি
এ আলয় তীর্থের সমান।
কথামৃতে কথিত কত শ্রীপ্রভুর লীলাযত
সুমধুর হরি গুনগান।।“







No comments:
Post a Comment