Friday, April 24, 2020

"𝐓𝐇𝐄 𝐌𝐈𝐃𝐃𝐋𝐄 𝐂𝐋𝐀𝐒𝐒" - Short Film | A Film By 𝐒𝐮𝐛𝐡𝐚𝐣𝐢𝐭 𝐋𝐚𝐡𝐚



𝐓𝐇𝐄 𝐌𝐈𝐃𝐃𝐋𝐄 𝐂𝐋𝐀𝐒𝐒 | A crippling lockdown | Short Film | A Film By 𝐒𝐮𝐛𝐡𝐚𝐣𝐢𝐭 𝐋𝐚𝐡𝐚

Synopsis: 
A crippling lockdown. Unprecedented restraints on the movement and employment of 1.3 billion people in the country. Udash, a middle-class person, who despite being needy, prefers not to ask for any help from others. A film on a few moments of the life of Udash. 

Our Facebook partner link:



Our YouTube partner Link:



Our Blog partner link:

Send Your Valuable Feedback:
𝐒𝐮𝐛𝐡𝐚𝐣𝐢𝐭 𝐋𝐚𝐡𝐚 (slaha666@gmail.com)
#Lockdown #HeritageKolkataPujoWalks #ParashPathar #BoxOfficeClub

Wednesday, April 22, 2020

"𝐓𝐇𝐄 𝐌𝐈𝐃𝐃𝐋𝐄 𝐂𝐋𝐀𝐒𝐒" - a no-budget short film releasing soon


"𝐓𝐇𝐄 𝐌𝐈𝐃𝐃𝐋𝐄 𝐂𝐋𝐀𝐒𝐒" - a no-budget short film : Poster

A crippling lockdown. A film on few moments of the life of a middle-class person.
"𝐓𝐇𝐄 𝐌𝐈𝐃𝐃𝐋𝐄 𝐂𝐋𝐀𝐒𝐒" - a no-budget short film releasing soon....


Directed By: 𝐒𝐮𝐛𝐡𝐚𝐣𝐢𝐭 𝐋𝐚𝐡𝐚

Social Media Partner: Heritage Kolkata Pujo Walks (https://www.facebook.com/HeritageKolkataPujoWalks/)

Blog Partner: Parash Pathar (https://parash-pathar.blogspot.com/)

YouTube Partner: Box Office Club (https://www.youtube.com/watch?v=qg3l6ps1-Yo)


#Lockdown #HeritageKolkataPujoWalks #ParashPathar #BoxOfficeClub

জোড়াসাঁকো নরসিংহ দাঁ-র বাড়ির পুজো



‘বানিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’। বাঙালীর এই প্রবাদ অক্ষরে অক্ষরে প্রত্যক্ষ করা যায় বনেদি ও জমিদার বাড়ির পুজো পরিক্রমায়ে। ১৭, ১৮ শতকে যে সব বাঙ্গালিই ব্যবসায় সফল হয়েছিলেন তাঁর প্রায় প্রত্যেকেই বাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। জোড়াসাঁকোর দুই দাঁ বাড়ি; শিবকৃষ্ণ ও নরসিংহ দাঁ-র বাড়ি গেলে অতিত ঐশ্বর্যের মৃদু আভার আন্দাজ পাওয়া যায়। আগেই বলেছি, প্রবাদ আছে মা গহনা পড়েন জোড়াসাঁকোর দাঁ বাড়িতে, কুমোরটুলির মিত্র বাড়িতে দ্বি-প্রাহরিক আহার সারেন, আর নৃত্যগীত উপভোগ করেন শোভাবাজারের রাজবাড়িতে। দুই দুঁদে ব্যবসায়ী বাঙালীর বাড়ির পুজো প্রত্যক্ষ না করতে পারলে কলকাতার সাবেকি পুজোদর্শন কখনই সম্পূর্ণ হয় না।






২০ এ বিবেকানন্দ রোড, কলকাতা- ৬। রাস্তার ওপর লালরঙা বাড়ি। পরিচয় বন্দুক বিক্রেতার বাড়ি। এ বাড়ির দুর্গাপুজো বন্দুকবাড়ির দুর্গাপুজো বলে খ্যাত। উত্তাল ভারতে যখন ইংরেজদের রাজ। তখন তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে বন্দুকের ব্যবসায় নাম কাড়েন নরসিংহ দাঁ। প্রথমে রিসড়া, পরে কলকাতায়ে কারখানার স্থানান্তর ঘটে। ১৮৫৯-এ এই পুজোর সূচনা হয়। সূচনা করেন নন্দলাল দাঁ। এখনো ঠাকুরদালানে এসে দাঁড়ালে দাঁ বাড়ির পূর্ব ঐতিহ্যকে অনুভব করা যায়। ঠাকুরদালানের লাগোয়া দেওয়ালে পূর্বপুরুষদের তৈলচিত্র, হরেক রকম বন্দুকের স্পেসিমেনের ছবি আপনাকে তাক লাগিয়ে দেবে। তবে দাঁয়েদের প্রথা মেনে এপুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দেবীর অঙ্গসজ্জা। হরেক বনেদি গহনা এমন সম্ভার অনেক মিউজিয়ামের সম্পদকেও হেলায় হার মানাতে পারে। হার মানা হারের এই লিস্টে কি নেই? আছে সীতাহার, সাতনরী, ললন্তিকা চেন আরও কতও কি। আজনুলম্বিত সেই সব গহনা ছাড়াও আছে সোনার চাঁদমালা, মুকুট, টায়রা, টিকলি, চুড়, চুড়ি, বাউটি, মানতাসা।




জোড়াসাঁকোর দুই দাঁ বাড়ির পুজোই তাঁর সমস্ত রীতিনীতি মেনেচলে আজও। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যে কারনে এই সাবেকি পুজোর ইতিহাস এত দৃঢ়, সেই চালচিত্রের সোনার গহনা, মানিক্য খচিত দেবীর কাপড়, অঙ্গসজ্জা, পূজোর নিয়ম নীতি, ভোগ পরসাদ এই সবকিছু আজও একইভাবে প্রাসঙ্গিক, ও অমলিন তাঁদের উত্তরপুরুষদের হাত ধরে।



শুভজিৎ লাহা  (slaha666@gmail.com)

জোড়াসাঁকো শিবকৃষ্ণ দাঁ-র বাড়ির পুজো



‘বানিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’। বাঙালীর এই প্রবাদ অক্ষরে অক্ষরে প্রত্যক্ষ করা যায় বনেদি ও জমিদার বাড়ির পুজো পরিক্রমায়ে। ১৭, ১৮ শতকে যে সব বাঙ্গালিই ব্যবসায় সফল হয়েছিলেন তাঁর প্রায় প্রত্যেকেই বাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। জোড়াসাঁকোর দুই দাঁ বাড়ি; শিবকৃষ্ণ ও নরসিংহ দাঁ-র বাড়ি গেলে অতিত ঐশ্বর্যের মৃদু আভার আন্দাজ পাওয়া যায়। আগেই বলেছি, প্রবাদ আছে মা গহনা পড়েন জোড়াসাঁকোর দাঁ বাড়িতে, কুমোরটুলির মিত্র বাড়িতে দ্বি-প্রাহরিক আহার সারেন, আর নৃত্যগীত উপভোগ করেন শোভাবাজারের রাজবাড়িতে। দুই দুঁদে ব্যবসায়ী বাঙালীর বাড়ির পুজো প্রত্যক্ষ না করতে পারলে কলকাতার সাবেকি পুজোদর্শন কখনই সম্পূর্ণ হয় না।






“ডাক রাং অভর চিকমিক ঝিকমিক করে।

তায় সোনালি রুপালি চুমকি বসান আলো করে।” (হু প্যা ন)

কালো, মোটা, বেঁটেখাটো শিবকৃষ্ণ সারাক্ষণ ভরি খানেক সোনার গহনা পড়ে থাকতেন। আচমকাই এক দিন সকালে কি মনে হল, শিবকৃষ্ণ ভাবলেন দেবী দুর্গা কেও এভাবেই সাজাবেন। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। সম্ভবত জার্মানি থেকে এসেছিল স্বর্ণ-মানিক্য খচিত ভেলভেটের মেরুন শাড়ী। আর এ শুধু মায়ের জন্য নয়, তার চার ছেলে, মহিসাসুর এমনকি দেবীবাহন সিংহের জন্যও একই ব্যবস্থা। বিদেশ থেকে আনা ‘মেটালিক’ স্বর্ণালী পাতে সাজানো হয় একচালায়। আনুমানিক ১৫০ বছর ধরে প্রত্যেক বছরে এই একই ভেলভেটের শাড়ীতে সেজে ওঠেন দাঁ বাড়ির ‘কন্যা’ দুর্গা। ১৮৪০ সালে সাতগাছিয়ার ব্যবসায়ী গোকুলচন্দ্র দাঁ, তাঁর আত্মীয়ের পুত্র ৪ বছরের শিবকৃষ্ণ দত্তকে পোশ্যপুত্র রূপে গ্রহণ করে কলকাতায়ে আসেন এবং এই বাড়ি ও দুর্গাপুজোর পত্তন করেন। পরে এই পুজো শিবকৃষ্ণ দাঁর বাড়িরপুজো রূপে বিখ্যাত হয়। শিবকৃষ্ণর রেলের লাইন নির্মাণের কাজে বেশ উন্নতি করেন এবং তাঁর সময় থেকেই পুজোর জাঁক বাড়ে ১২এ শিবকৃষ্ণ দাঁ লেনে। বাড়ির পুজো এখনো সনাতনী রীতিনীতি মেনে পালন করা হয়। রথযাত্রার দিন কাঠামো পুজো করা হয়। আগে শাল কাঠে বানানো হত দেবীর কাঠামো এখন গরান কাঠে বানানো হয় দেবীর অস্থি। সন্ধিপুজোয় মেনে চলা হয় এক বিশেষ রীতি। অধরলালের বাড়ির পুজোয় নারীরা থাকেন সামনে, তেমনি এবাড়ির পুজোয় তাঁরা থাকেন নেপথ্য। সন্ধিপুজোর সমস্ত কাজ সামনে থেকে, সঙ্গে থেকে পরিচালনা করে বাড়ির পুরুষেরা, বাড়ির ছেলে, জামাই সকলে। আর পাঁচটা জমিদার বাড়ির মতো এবাড়ির বৈঠকখানাও এখনো যেন সেই ১৮০ বছর আগেকার ইংরেজ আমলেই আটকে আছে। বৈঠকখানার দেওয়ালও জড়িয়ে রয়েছে এক আশ্চর্য প্রাচীন বৈশিষ্ট্য। এবাড়ির বৈঠকখানার দেওয়াল এক দর্শনে সাধারণ মনে হলেও আদতে তা কিন্তু পুরু ধাতব পাতের তৈরি।






শুভজিৎ লাহা  (slaha666@gmail.com)

অধরলাল সেনের বাড়ির পুজো


In front of Adhar Lal Sen House

কুমোরটুলি পার্ক থেকে আহিরীটোলা সার্বজনীন। আরও একটা গলিপথের শর্টকাট। ভিড় ছেড়ে যদি একটু দাঁড়াতে চান তবে পৌঁছে যেতে পারেন ৯৬ ও ৯৭ বি বেনিয়াটোলা স্ট্রীটে।
৯৬বি এই বাড়ির পুজোর প্রবর্তন করেন রামগোপাল সেন। ইনি পরম বৈষ্ণব ও ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন। আদি বাড়ি হুগলী জেলার সিঙুরে। রামগোপালের চার ছেলে; শ্যামলাল, মন্মথনাথ, কমলকৃষ্ণ এবং অধরলাল। সাবেকি বাড়ির এই পুজোয় প্রথম থেকেই নারীরা সর্বময়ী কর্ত্রী। পুজোয় দিন, আরতির সময় পৌঁছলে, দেখতে পাবেন সনাতনী গহনা ও পোশাকে সজ্জিত বাড়ির মেয়েদের কাঁসর ঘণ্টা বাজানো থেকে চামর দুলিয়ে বাতাস করা পর্যন্ত যাবতীয় কাজকর্মে। রামগোপাল বেশ আধুনিক মানুষ ছিলেন। বাড়ির ছেলেদের ইংরাজি শিক্ষা, মেয়েদের পরদা ছেড়ে পুজোয় পুজোর আনন্দে একসাথে মেলানর কাজটি তিনি সেরে ফেলেছিলেন বহু বছর আগে। তাইতো এ বাড়ির মহিলারা পুজোয় সাজানো থেকে শুরু করে সমস্ত কাজ প্রায় একা হাতে সামলান। এখানে দেবীকে রান্নাভোগ দেবার রীতি নেই। দেবী পুজো পান শুকনো চাল ও অন্যান্য ফলের ভোগেই।



Main Entrance
Plaque

এর ঠিক পাশেই, ৯৭বি, ‘অধরালয়’, অধরলাল সেনের নিজের বাড়ি। এখানে পুজো শুরু সেই ১৮৫৫ সাল থেকে। কথিত আছে, ১৮৮৩ ও ৮৪ এ ঠাকুর এই দুই বাটিতেই পুজো দেখতে এসেছিলেন। সেই স্মৃতি অমলিন রাখতে বাড়ির দেওয়ালে খচিত আছে, “শ্রীরামকৃষ্ণ পদাঙ্কিত ভক্ত অধরলাল সেনের বাড়ি”। এই বাড়ির পুজো আগের বাড়ির অনুরূপ। পুজোর চার দিন নিরামিষ ভোগ হলেও, নিয়মকরে দশমীর দিন আমিষ রান্না হয় এ বাড়িতে। তবে আমিষ শুধু বাড়ির ছেলেদের জন্য।


Durga mandap

Thakurdalan

Corridor

অধরলাল ডেপুটি ম্যজিস্টেট ছিলেন। সেই সুত্রে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র এসেছিলেন এই বাড়িতে।

সাহিত্যসম্রাট নামে    পরিচিত বঙ্গভুমে
অধরের সতীর্থ একজন।
চাটুজ্যে বঙ্কিমচন্দ্র    মিতভাষী নম্রভদ্র
এখানে প্রভুর আলাপন।।
ঈষৎ প্রগলভ কথা   প্রানে তাঁর দিল ব্যথা
মৃদু তিরস্কার বানী তাই।
শোধন করিয়া দিল   মনে যত ভ্রান্তি ছিল
বেনিয়াটোলার এই ঠাই।।

ঠাকুরের সাথে এসেছিলেন স্বামীজিও। সেকালের বনেদি পুজ মানেই নাচ, গান, বাজনা, আড্ডা সবকিছু মিলিয়ে একটা গ্র্যান্ড উৎসব। একবার পুজোয় স্বামীজিকে গান গাইবার অনুরধ করা হয়। শোনা যায় নাকি ২৭ গান গাইয়ে তবে থামতে দেওয়া হয়েছিল সেকালের নরেন দত্তকে।

শ্রীযুক্ত অধরসেন     বহুভাগ্য করেছেন
ভগবান এই গৃহে এল।
অন্তরঙ্গ সমাগমে     নৃত্যগীত উদ্দামে
আনন্দ উৎসব কত হল।।



Entrance Gate

ইতিহাস বিস্মৃত এই বাড়ি, “অধরালয়”, যার নামে সেই অধরলাল সেন ছিলেন একাধারে ঠাকুর রামকৃষ্ণের পরম স্নেহধন্য ও প্রতিভাধর এক পুরুষ। মাত্র উনিশ বছরে লিকে ফেলেছিলেন দু-দুটি বই। ২৪এ ডেপুটি ম্যজিস্টেট হন। মাত্র তিরিশ বছর বয়সে ঘোড়া থেকে পরে গিয়ে অকালে মারা যান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের এই ‘মেম্বার অফ ফ্যাকাল্টি’।

“বিধির বিধান এই   রুধিবে মানুষ কই
প্রাণ গেল অশ্ম চরিবারে।।
শ্রীরামকৃষ্ণ পদধুলি    ধন্যগৃহাঙ্গন গুলি
এ আলয় তীর্থের সমান।
কথামৃতে কথিত কত  শ্রীপ্রভুর লীলাযত
সুমধুর হরি গুনগান।।“





শুভজিৎ লাহা  (slaha666@gmail.com)


শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো, বড় ও ছোট পক্ষ

Sovabazar Rajbari

কলকাতার প্রথম দুর্গাপুজো কোনটি?

উত্তর যদি সাবর্ণ রায়চৌধুরীর বাড়ির পুজো হয় তবে সেটি ভুল। ১৬৯৮ সালে ইংরেজরা তিনটি গ্রাম, গোবিন্দপুর, সুতানুটি ও কলকাতা সাবর্ণদের থেকে অধিগ্রহণ করেন। আর সাবর্ণ রায়চৌধুরীর আটচালার পুজোর পত্তন হয় ১৬১০এ। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ‘আধুনিক’ কলকাতার থেকেও প্রাচীন এই সাবেকি পুজো। অতএব?




উত্তর জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৭৫৬-এ। মসনদে তখন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদউল্লা। কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তখন জমিয়ে দুর্গাপুজো করছেন। রাজা লড়লেন নবাবের বিরুদ্ধে জগতশেঠের বন্ধু হয়ে মীরজাফরের পক্ষে। ১৭৬০ মসনদে এলেন মিরকাসিম, মীরজাফরের জামাই। সন্দেহভাজন মিরকাসিম প্রথমে জগতশেঠকে হত্যা করলেন, পরে জেলে পুরলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে। ইংরেজ সরকারের মধ্যস্থতায়ে সেবার ছাড়া পেলেন রাজা, তবে তত দিনে দুর্গোৎসব শেষ। রাজা স্বপ্নাদেশ পেলেন। সেই থেকে কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর শুরু। তত দিনে শহর কলকাতার পসার শুরু হয়ে গেছে। ইংরেজদের উদ্যোগে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের অনুকরণে, বার্ষিক উৎসবের মত শুরু হয়েছে জমিদার ও রাজবাড়ির দুর্গোৎসব। এব্যাপারে পথিকৃৎ ছিলেন শোভাবাজারের রাজা নবকৃষ্ণ দেব। ১৭৫৭-এ পলাশীর যুদ্ধের পর প্রথম কলকাতায় পুজো হয় শোভাবাজার রাজবাড়িতে, এখনকার ৩৪ ডি রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রীটে। ভাইপো গোপীমোহন কে পোশ্য নিয়ে এবাড়ির পুজো শুরু করেন রাজা নবকৃষ্ণ। পরে নিজের ছেলে রাজকৃষ্ণের জন্মের পর রাস্তার দক্ষিণে নতুন বাড়ি নিয়ে উঠে যান ৩৩ রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রীটে।



পুরনো রাজবাড়িতে গোপীমোহন বাড়ির কুলপুজোর সুচনা করেন। শ্রী শ্রী গোপীমোহন জিউ আজও বাড়ির ঠাকুর ঘরে নিত্য পূজা পান। মেদিনীপুর থেকে শিল্পীরা আসেন; মিষ্টির ভিয়েন বসে। আগে, গোপীমোহনের সময়ে ৫০-৬০ রকমের মিষ্টি বানানো হত। এখন তা কমে ২০ টি পদে এসে দাড়িয়েছে। এখানে দেবী কন্যা রুপে পুজো পান। ডাকের সাজে সাজানো হয় একচালার এই দেবী প্রতিমাকে। শোনা যায়ে, দেবেরাই প্রথম জার্মানি থেকে রূপোর পাতের সাজ আনাতেন দেবীর আভরনের জন্য; ডাকে করে এই সাজ আসত বলে এর নাম ছিল ডাকের সাজ। এখনো দেবী এখানে অন্য কোন সাজে সজ্জিতা নন, শুধুমাত্র ডাকের সাজ ছাড়া। গোপীমোহনের এই বাড়িতে এক সময় কাশ্মীর, বার্মা (মায়ানমার) থেকে সুন্দরী নর্তকীরা আসতেন। সং আসত। নানান রকমের খেল দেখাত তাঁরা। রনপা-য় চেপে নাচা, কাঁচের বোতল চেবানো, আরও কত কি! সাহেবরা সস্ত্রীক আসতেন সে রঙ্গ উপভোগ করতে। গভীর রাতে সাহেবরা চলে গেলে খাওয়াদাওয়ার পর আবার বসত তাদের আসর। তবে তা চলত সদর দরজা বন্ধ করে। এক ইংরেজ তাঁর কলকাতার পুজ দেখার অভিজ্ঞতায়ে লিখেছিলেন, “রাতে সে বাড়িতে দরজা বন্ধ করে সঙেরা সাহেব-মেম দের নকল করে দেখাত; আর তাই দেখে বাড়ির মেয়ে বউরা আহ্লাদে লুটোপুটি খেত”। খাওয়া-দাওয়া, আমোদ উৎসবে কেটে যেত পুজর চারটি দিন। সন্ধিপুজোর সময় এককালে কামান দাগা হত, সেই রীতি মেনে এখনও ব্ল্যাংক ফায়্যার করা হয় অষ্টমী ও নবমীর সান্ধ্যক্ষণে। নীলকণ্ঠ পাখি উড়িয়ে কৈলাসে দেবীকে ফেরানোর বার্তা পাঠানো হত। সেই প্রাচিন রীতির আদলে, নীলকণ্ঠ পাখির মূর্তি গড়ে তাঁতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন শোভাবাজারের ঠাকুরমশাই। দশমীর দিনে দেবীর সাথে বিসর্জনে যায়ে একজোড়া নীলকণ্ঠ পাখির মূর্তি। লর্ড ক্লাইভের দেওয়ান নবকৃষ্ণ রাজাবাহাদুর উপাধি পান। নিয়ম অনুযায়ি সাত হাজার অস্মারোহী সেনা রাখতে পারতেন এই উপাধিধারিরা। বিয়ের সময় এ নিয়ে কন্যাপক্ষ তাঁকে মস্করা করায়ে ফোট উইলিয়াম থেকে চার হাজার সেনা ভাড়া করে খানাকুলে বিয়ে করতে যান রাজাবাহাদুর রাজা নবকৃষ্ণ।







৩৩র রাজা নবকৃষ্ণ ষ্ট্রীটের বাড়িটির ইতিহাস আরও ঝলমলে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও নাচের খুব কদর করতে জানতেন এই রাজবাড়ি। কথিত আছে মা গহনা পড়েন জোড়াসাঁকোর দাঁ বাড়িতে, কুমোরটুলির মিত্র বাড়িতে দ্বি-প্রাহরিক আহার সারেন, আর নৃত্যগীত উপভোগ করেন শোভাবাজারের রাজবাড়িতে। কে আসেননি এই বাড়িতে? লর্ড ক্লাইভ, ওয়ারেন হেস্তিংস, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখরা। এন্টোনি ফিরিঙ্গী আর ভোলা ময়রার ঐতিহাসিক কবির লড়াইয়ের সাক্ষী ছিল এই বাড়ি। শিকাগো থেকে ফিরে এখানেই প্রথম বক্তৃতা দেন স্বামী বিবেকানন্দ, সে কিন্তু বাংলায়ে নয়; খাস রাজভাষা ইংরাজিতে। পুজোর সময়ে কলকাতার কয়েকশো বনেদি ও রাজবাড়ির মধ্যে এখানেই ভিড় হয় সবচেয়ে বেশী। এখনো সিংহ দরজার সামনে দাঁড়ানো প্রতিকি কামান, পুজোর ভোগ রান্নার ঘ্রাণ, দোতলার ঘরথেকে ভেসে আসা , মায়ের সনাতনী একচালার প্রতিমা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে দাপুটে বাংলার অম্লান অতিত। সঙ্গীতের চর্চা দেববাড়িতে চিরন্তন। আজকের যুগের সঙ্গীত পরিচালক রাজা রাজনারায়ান দেব এই বাড়িরই ইতিহাসকে সস্মমানে বহন করছেন।












শুভজিৎ লাহা  (slaha666@gmail.com)

ঘোষ বাড়ির পূজো, রামলোচন ও খেলাৎ ঘোষের বাড়ির পূজো






ইতিহাস সর্বদাই জীর্ণ। আমাদের কল্পনা আর অতিত স্মৃতি তাঁকে প্রাণ দেয়। অধিকাংশ ইতিহাসই নখ-দাত-চর্বি হারিয়ে কঙ্কালসম দাড়িয়ে থাকে। কলকাতার বনেদি বাড়ির পূজো অধিকাংশই তাই। কতগুলো প্রাচীন রীতি, নিয়ম, অতিত স্মৃতি নিয়ে স্ম্রিয়মান। কিন্তু যখন ইতিহাস শুধু কঙ্কাল নয়; নখ-দাত-চর্বি আর পালিশ করা জুতোয় জ্বলজ্বল করে তখনতা শুধু চমকেই দেয় না, আশ্চর্য করে। যদি তেমন আশ্চর্য হতে চান, তবে আপনার গন্তব্য হওয়া উচিত ৪৭ পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রীট, দেওয়ান খেলাৎ ঘোষের বাড়ি। 






তবে শুরুটা করি রামলোচন ঘোষের বাড়ির পুজো দিয়ে। একেবারে পাসের বাড়ি,
৪৬ পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রীট। রামলোচন ঘোষ, সম্পরকে খেলাৎ ঘোষের দাদু। ১৭৮৩ তে এই বাড়িতে দুর্গা পুজোর পত্তন করেন। তারপর ঐতিহাসিক সেই দুর্গা পুজোর সাক্ষী থেকেছেন তাঁবড় তাঁবড় শিল্পী ও গূণী মানুষেরা। ধ্রুপদী সংগীতের রাণী কেসরবাঈ, ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলী, আলাদীয়া খান, গহরজান, আব্দুল করিম খানের মত শিল্পীরা এসে মজলিস বসাতেন এই ৪৬ পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রীটে। পূজোর ক’দিন যেন নন্দনকাননের আসর বসত রামলোচনের তট্বাবধানে। লর্ড ওয়াড়েণ হেসটিনস স্বস্ত্রীক এসেছিলেন এই পূজো দেখতে। সংগীতের এই মহাধামে কান পাতলে এখনো শোণা যাবে পূজো-ষ্পেশাল ঢাক আর সানাইয়ের অনবদ্য যুগলবন্দী। যদিও সেইঘর সেই বারান্দা আজও আছে আগের মতোই, কিন্তু ফেলে আসা সময়টা বন্দী হয়ে আছে অমলিন কিছু স্মৃতি আর সাজানো ফোটো ফ্রেমে।














কিন্তু একবারেই জৌলুশ হারায়নি, প্রপৌত্র খেলাত ঘোষের রাজ নিবাস। ৮৫ ফুটের লম্বা মার্বেলের করিডোর বানিয়েছিল সেই শতকের সেরা জার্মান কোম্পাণী মারটিন এন্ড বার্ন। এতো বড় ঠাকুর দালান কোলকাতায়ে তো দূরস্থান সারা ভারতবর্ষে মিলবে কিনা সন্দেহ। মঠচৌরী মতে নির্মিত হয় এবাড়ীর প্রতিমা। পড়নে ডাকের সাজ, আর চালচিত্রে কালী, কৃষ্ণ প্রভৃতি দেবদেবী আর অসংখ্য লোকগাথার গল্প। সামনের সিঁড়ী বেয়ে যদি ওপরে যাবার সুযোগ মেলে, তবে চোখের সুখে আশ মিটিয়ে নিতে পারেন খাঁটী বেলজীয়াম কাঁচের ঝাড়লন্ঠন, থমসন কোম্পাণীর খাস গ্র্যান্ডফাদার ক্লক, নরম মখমলের ফরাস এবং আরও অনেক দুষ্প্রাপ্য শিল্পসামগ্রীকে প্রত্যক্ষ করে। সবচেয়ে আশ্চর্য হতে হয় উঠোনের মার্বেল মূর্তি গূলো চাক্ষুষ করে।  মার্বেল পাথরের ঘর্মাক্ত গা দেখে মনে হবে যেন সদ্য জার্মানি থেকে বানিয়ে আনানো। এই বাড়ির সৌন্দর্য, সম্পদ আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে ভীড় করা অজশ্র অতীতগাঁথা, যার কোনটা সত্যি কোনটা হয়ত রূপকথা, কিন্তু তা পলকে বড্ড বেশী মূর্ত হয়ে ওঠে বাড়ির নাটমন্দিরে এসে দাঁড়ালে। মঠচৌরী মতে নির্মিত হয় এবাড়ীর প্রতিমা। পড়নে ডাকের সাজ, আর চালচিত্রে কালী, কৃষ্ণ প্রভৃতি দেবদেবী আর অসংখ্য লোকগাথার গল্প।