Monday, September 21, 2020

ছবিতে শ্রীরামকৃষ্ণের প্রথম আত্মপ্রকাশ ২১ শে সেপ্টেম্বর ১৮৭৯

অনন্ত ভাব ময় শ্রীরামকৃষ্ণ জানতেন যে আগামী দিনে বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত যুক্তিবাদী মানুষ সব বিষয়ে প্রমাণ চাইবে । সেই দিন গুলির কথা মাথায় রেখে ১৪১ বছর পূর্বে, ১৮৭৯ সালের ২১ শে সেপ্টেম্বর, তার অন্যতম ভক্ত ব্রাহ্ম ধর্ম নেতা কেশব চন্দ্র সেন এর রাজাবাজার অঞ্চলে অবস্হিত কমল কুটির বা লিলি কটেজে তার প্রথম আলোকচিত্র গৃহীত হলো। 


The Present condition of the Kamalkutir, the House of Brahmananda Keshab Chandra Sen at Rajabazar area in North Calcutta, where the first ever photograph of Thakur Sri Ramakrishna was taken on 21st September 1879. On the right side, the orange coloured building happens to be the Nabadebalay, which was also founded by Keshab Chandra Sen on 1st January 1884, only a few days before his untimely death.

রাধা বাজার অঞ্চলের বেঙ্গল ফটোগ্রাফার ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ এর ওই আলোকচিত্র টি তোলেন যেখানে দেখা যায় ভাব সমাধিতে লীন হওয়া শ্রীরামকৃষ্ণ কে ধরে আছেন তার ভাগ্নে হৃদয় রাম মুখোপাধ্যায় । 

First ever photograph of an Incarnation in Ramakrishna Avatar was taken at Keshab Chandra Sen's House , "Lily Cottage / Kamalkutir " at Rajabazar area in North Calcutta by the Photographers of Bengal Photographer's studio

ওই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম কারণ ওই দিন ই, প্রথম কোনো অবতার পুরুষের আলোকচিত্র গৃহীত হয়েছিলো যা, আগামী ১৫০০ বছর পরেও বেশ কিছু অবিশ্বাসী মানুষ কে প্রমাণ করে দেবে শ্রীরামকৃষ্ণের গৌরবময় অস্তিত্ব এবং তিনি, মহেন্দ্র নাথ গুপ্তের (শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণকথামৃতের রচয়িতা) কল্পিত কোন দিব্য চরিত্র নন। একই সাথে, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তার স্বরূপ প্রকাশ করলেন সমগ্র বিশ্বের সন্মুখে এই আলোকচিত্রের মাধ্যমে। 

21st September 1879. Revisited.141 years ago, the day on which, the first ever photograph of an Incarnation in Ramakrishna Avatar was taken at Keshab Chandra Sen's House, "Lily Cottage / Kamalkutir" at Rajabazar area in North Calcutta.


এর পূর্বে, আমরা যত অবতার পুরুষের অনুধ্যান করেছি প্রাচীন সব শিল্পীদের অনুমান ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে, কিন্তু এই আলোকচিত্র প্রথম কোন অবতার পুরুষ কে সঠিক ভাবে অনুধ্যান করতে সাহায্য করেছে। সেই জন্যে আজকের এই দিনটি, ২১ সেপ্টেম্বর এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।

Video Clippings of Keshab Chandra Sen's House - Kamalkutir in the Rajabazar area in North Calcutta, where the first-ever photograph of Thakur Sri Ramakrishna was taken on 21st September 1879.

Video & voice over courtesy: Sri Debraj Mitra

(debraajmitra19@gmail.com)

Thursday, August 20, 2020

Salutations to MS Dhoni: Warrior 🏏

There won't be any untold story on MS DHONI left to be heard, but it will be quite hard to get another Cricketer of  MS DHONI's stature who has served Indian Cricket with sweat and blood, helped to earn accolades by Winning the World Cup (50 overs- Twenty20), ICC Champions Trophy and under His  astute Leadership, the Indian Cricket reached the Acme in Test Cricket. 





Sorry to say, MS Dhoni in a while would become a Closed Chapter in Indian Cricket. Salute to this Legend of Indian Cricket !! Your achievements would be hard to be emulated!!

- Debraj Mitra (debraajmitra1@gmail.com)

Monday, June 29, 2020

করোনা, নিছকই একটা ভাইরাস নয়

২রা মে, ২০২০। ইজিপ্টে মারা গেলেন সাঈদ হাবাশ; দুবছরেরও বেশি সময় বিনা বিচারে জেলে থাকার পর। কি অপরাধ? মিশরের রাষ্ট্রপতি, আল-সিসিকে বিদ্রুপ করে বানানো মিউজিক ভিডিওর নির্দেশনা দিয়েছিলেন তিনি। মারা যাবার আগে, হাবাশ লিখেছিলেন, “মানসিক মৃত্যু আমার আগেই হয়েছিলো”।

২৫ শে মে, ২০২০। মিনিয়েপোলিশ। ৪৬ বর্ষীয় ‘কৃষ্ণাঙ্গ’ জর্জ ফ্লয়েডকে হাঁটু দিয়ে গলা টিপে হত্যা করেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। তোলপাড় করা এই ঘটনার ভিডিও মুহূর্তে  ছড়িয়ে পরে সোশ্যাল সাইট এবং মিডিয়ার ব্রেকিং নিউজে।

২৩ শে জুন, ২০২০। মারা গেলেন তামিলনাড়ুর পি জয়রাজ, ও তাঁর ছেলে জে ফেনিক্স। লকডাউনের নিয়ম ভেঙ্গে দোকান খোলা রাখার কারণে তাঁদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গনমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পুলিশি হেফাজতে থাকাকালিন চরম নৃশংস যৌন অত্যাচারের শিকার হন এই দুজন। ফেনিক্সের এক বন্ধুর বয়ান আরও সাঙ্ঘাতিক। ২০ শে জুন, সকাল ৭টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে ৭ বার লুঙ্গি পরিবর্তন করতে হয় তাঁদের। কারন; যৌন নৃশংসতার জন্য প্রতিটি লুঙ্গির মলদ্বার সংলগ্ন স্থান অতিরিক্তভাবে রক্তভেজা ছিল।

তিনটে ঘটনার মিল গুলো লক্ষ করুন। মিলটা হল, প্রতিটি ঘটনাই লকডাউন সমকালীন, বা লকডাউন পরবর্তী সময়ের। আরও মজার ব্যাপার হল, হ্যা মজার! প্রতিটি ঘটনাই ক্ষমতার বেয়াব্রু, আবডালহীন প্রদর্শন। স্বৈরতন্ত্রের নির্লজ্জ প্রকাশ; সে প্রশাসন, রাষ্ট্র বা যাইহোক, এক কথায় তাকে ‘ক্ষমতা’ই বলে। 

আরেকটু ঝেড়ে কাশা যাক থুড়ি ব্যাপারটা আরেকটু পরিষ্কার করা যাক। একটু গুছিয়ে সাজিয়ে নিই। সরকারী নির্দেশ অনুসারে, হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীর কথাই আপাতত দেশের শেষ কথা বলে মেনে নিতে হবে। ইস্রায়েলের প্রধানমন্ত্রী আদালত বন্ধ করে দিয়েছেন ও নাগরিকদের একটি অনুপ্রবেশমূলক নজরদারি শুরু করেছেন। চিলি পাব্লিক স্কোয়ারে সেনাবাহিনী পাঠিয়েছে; যুক্তি, তাঁরা সম্ভাব্য বিক্ষোভকারীদের দখলে রাখতে চায়। এবং বলিভিয়া পরবর্তী নির্বাচন স্থগিত করেছে। সব কটি ঘটনার মিল একটাই, রাষ্ট্র, আরও ভালভাবে বললে, রাষ্ট্রনায়করা এখানে শেষ কথা, এবং ঢাল বেচারা কোভিড-উনিশ।

আরও কিছু সমান্তরাল নমুনা পেশ করা যাক। পৃথিবী ব্যাপী শক্তিশালী রাষ্ট্র নায়কদের লম্বা লিস্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ব্রিটেনের বরিস জনসন, চীনের জিনপিং, রাশিয়ার পুতিন, স্পেনের পেড্রো স্যাঞ্চেজ, ব্রাজিলের জের বোলসোনারো এবং ভারতের নরেন্দ্র মোদি। এদের মিলটা কোথায়? উত্তর; এদের দেশপ্রেমে উগ্র জাতিয়তাবাদ স্পষ্ট। দেশের সাফল্যকে এরা নিজের সাফল্য বলতেই বেশী পছন্দ করেন। পৃথিবীজুড়ে একাধিক সমীক্ষা এদের জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব বলে প্রচার করে এসেছে। এরা প্রায় সকলেই অতি দক্ষিণপন্থি ভাবধারার শাসক। এবং মজার ব্যাপার হল, করোনা মোকাবিলায় এরা প্রত্যেকেই কমবেশি ব্যর্থ। কারণ কি? খুব পরিষ্কার। দেখা গিয়েছে, এনারা এনাদের পছন্দসই অ্যাডভাইসর গোষ্ঠীর কথাই মেনে চলেছেন। যা এনাদের কথার প্রতিধ্বনি ছাড়া আর কিছুই নয়। কোনও ঠিকঠাক এক্সপার্ট গ্রুপ, বিশেষজ্ঞ মেডিকেল প্রফেশনাল, বিজ্ঞানীদের প্যানেল এদের ছিলনা। ফলতঃ, ডিসিশন ও কাউন্টার ডিসিশনের যে চিরাচরিত নিয়ম সেটা মানতে হয়নি এদের। যার ফলাফল, একটা চরম বিপর্যস্ত এবং অবাঞ্ছিত আধুনিক সময়।

এবার কিছু করোনা-পরিসংখ্যান দেওয়া যাক। এই মুহূর্তে দেশের কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ৫ লক্ষের কিছু বেশী, যার মধ্যে ৩ লক্ষ মানুষ সেরে উঠে বাড়ি ফিরে এসেছেন। মারা গিয়েছেন প্রায় ১৬ হাজার। বাকি পরিসংখ্যান কি বলছে? এক বছরে ভারতে পথ দুর্ঘটনায় মারা যান প্রায় ১.৫ লক্ষ মানুষ; ডায়াবেটিস ও আত্মহত্যায় সংখ্যাটা যথাক্রমে ৩ ও ১.৩ লক্ষ। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, হার্ট-অ্যাটাকের মতো জলভাত রোগের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা মোটেই হেলাফেলার নয়; করোনায় মৃত্যুর থেকে প্রায় কয়েকগুণ বেশী। তবে? করোনাকে কি ভয় পাবো না, ভয় কি পাবো না আমরা?...কিন্তু বিজ্ঞান যে বলছে...?

কি বলছে বিজ্ঞান? সাধারণ মানুষের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিজ্ঞান বলেছিল যে ভারতবর্ষ গরমের দেশ, করোনা এদেশে টিকবে না। আহা, শিবদাস ব্যানার্জির গানটা মনে পরে যায়, ‘ভারতবর্ষ সূর্যের এক নাম, আমরা রয়েছি সেই সূর্যের দেশে’। মার্চের চতুর্থ রবিবারে বিজ্ঞান বুঝিয়েছিল কিভাবে একদিনের কার্ফুতে করোনা চেইনটা ভেঙ্গে যাবে। হালে সূর্যগ্রহণের সাথে করোনা উপসর্গের একটা বিজ্ঞান ভিত্তিক সমীকরণ জনতার মধ্যে বেশ প্রভাব ফেলেছে। Solar Eclipse 2020: Can Surya Grahan kill coronavirus? Find out what science says” এটি ছিল একটি প্রখ্যাত ইংরিজি দৈনিকের হেডলাইন। বিজ্ঞান আর অবিজ্ঞানের তফাৎ যারা বলেন যুক্তি, তাঁরা ভুল বলেন। কারণ, যুক্তিটা অবৈজ্ঞানিকও হতে পারে। আধুনিক স্বাস্থ্য-বিজ্ঞানের পরাকাষ্ঠা বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা কি বলছে? এক দিনের ব্যবধানে দুটি পরস্পর বিরোধী মন্তব্য। একবার বলে, উপসর্গহীনরাই করোনা ছড়িয়ে যাবার মস্ত কারণ; পরের দিনের মন্তব্যে একই কারণটা very rare ও তার পরের দিন unlikely হয়ে যায়। এছাড়াও আরও হাফ ডজন অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করাই যায়। তাহলে, লড়াইটা বিজ্ঞান আর অবিজ্ঞানের নয়; বিজ্ঞান আর রাজনীতির। তবে, একটি বৈজ্ঞানিক আর একটি রাজনৈতিক বক্তব্যের পার্থক্য কোথায়? “পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে”- একটি বৈজ্ঞানিক বক্তব্য। আর, চারশো বছর আগে গ্যালিলিও চার্চের নির্দেশে বলতে বাধ্য হলেন, “সূর্য পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে”। একটি রাজনৈতিক বক্তব্য, আরও পরিষ্কার করে বললে ক্ষমতার প্রভাবে প্রভাবিত বক্তব্য।

ক্ষমতা চিরকালই চেয়েছে তার অধিনস্তকে মুক করে রাখতে। আজকের সময় তাকে অন্ধ-বধিরও করে দিতে চায়। আপনি ততটাই জানবেন যতটা ক্ষমতা আপনাকে জানাতে চায়। ততটাই দেখবেন, যতটা সে দেখাবে। তবুও না-দেখার মেঘটার আড়ালে যে সত্য লুকিয়ে আছে তা যখন মাঝে মাঝে নগ্ন হয়ে যায়; তাতে পরিস্কার দেখা যাছে, এই করোনা-কালীন সময়কে ঢাল করে বিশ্বজুড়ে নেতারা নির্বাহী ক্ষমতা গ্রহণের আবেদন করছেন এবং প্রায় কোন প্রতিরোধ ছাড়াই কার্যত স্বৈরাচারী কর্তৃত্ব দখল করছেন। শুধু তাইই নয়, তাঁদের কর্তৃত্ব এখন প্রতি মুহূর্তে তাঁর সমাজকে, আপনাকে মেপে নিছে। আপনি চায়ে ক’চামচ চিনি খান, বংশে হাঁপানি আছে কিনা, শুতে যাবার সময় কোন দিকে মাথা করেন, পঁচিশে বৈশাখে পাঞ্জাবী পড়েন কিনা, পছন্দের ফুল কি? জবা, নয়নতারা না পদ্ম কিম্বা আপনার বড়শালির বাড়ি কোথায়? বড়গাছিয়া না বাঘাযতীন...সওওব। আপনাকে সুরক্ষিত করার নামে আপনার এই সকল খুঁটিনাটি ভাল-মন্দ লাগা তাঁদের নখদর্পণে। আরও মজার ব্যাপার, এই ক্ষমতাকে আপনি যদি শুধুই রাষ্ট্র ভাবেন তাহলে মস্ত ভুল করবেন। এই ক্ষমতা সকল ফর্মে, সব রকম ফরম্যাটে আপনাকে নজরবন্দি করে রেখেছে, সে আপনি বাড়িতেই থাকুন বা মেসে। ক্ষমতা শুধু তাঁর রূপ বদলে যাছে, কখনো সে সহকর্মী, কখনো বাড়িওয়ালা, আবার কখনো সরকার। এখন আপনি ভাববেন, ধুর তাও আবার হয় নাকি? কি লাভ এসব করে? কারণ এরাই ঠিক করবে আপনি কি করবেন, কি পড়বেন, কোথায়ে যাবেন? পিএইচডি করে কলেজে পড়াবেন, না বেনারসি পানের দোকান দেবেন, তা ঠিক করে দেবে এরাই। আপনি সতর্ক হন। প্রসেসটা কিন্তু শুরু হয়ে গেছে। সরকার নাক-মুখ ঢাকতে বলেছে, চোখ-কান নয়। এককালে যাদেরকে রেপ্রেসেনটেটিভ ভেবেছিলেন, তাঁরাই এখন ডিসিশন-মেকার। তাঁরা এখন আপনাকে গ্রাহ্যই করেনা কারণ ঐ যে, কাউন্টার ডিসিশন তাঁদের পছন্দ নয়।

এটা কি রাজনীতি বিরোধী লেখা? মোটেই নয়। এটা রাজনৈতিক লেখা। সব মানুষই রাজনৈতিক, কেউ অ-রাজনিতিক নন। আর কোন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শকে মেনে বা মেনে না চলার সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। এই লেখা বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলের বিরোধীও নয়; বিশ্ব জুড়ে ক্ষমতার যে আগ্রাসন, এই লেখা তার বিরুদ্ধে, গনতন্ত্রের পক্ষে।

আপনি কি ভয় পেলেন? হ্যাঁ প্রচণ্ড। কারণ, কোনোদিন অফিস থেকে ফিরে এসে দেখলেন বাড়ি রং করার জন্য গোডাউনে ডাই করে রাখা সব বই গুলো আপনার বউ বেচে দিয়েছে আর উত্তরে বলছে “ওই বই গুলোতো তুমি পড়তেই না, শুধু আবর্জনা হয়ে পড়েছিল”। মশাই, ভয়টা পেলে বিক্রি হয়ে যাবার আগে পাওয়াই ভালো, তাই নয় কি?

শুভজিৎ লাহা  (slaha666@gmail.com)

তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট 

বি:দ্রঃ লেখকের মতামত একান্ত ব্যক্তিগত   

Wednesday, June 3, 2020

Awareness campaign for COVID-19 outbreak



Protect yourself and others from the spread COVID-19

1. Regularly and thoroughly clean your hands with an alcohol-based hand rub or wash them with soap and water. Why? Washing your hands with soap and water or using alcohol-based hand rub kills viruses that may be on your hands.

2. Maintain at least 1 metre (3 feet) distance between yourself and others. Why? When someone coughs, sneezes, or speaks they spray small liquid droplets from their nose or mouth which may contain virus. If you are too close, you can breathe in the droplets, including the COVID-19 virus if the person has the disease.

3. Avoid going to crowded places. Why? Where people come together in crowds, you are more likely to come into close contact with someone that has COIVD-19 and it is more difficult to maintain physical distance of 1 metre (3 feet).

4. Avoid touching eyes, nose and mouth. Why? Hands touch many surfaces and can pick up viruses. Once contaminated, hands can transfer the virus to your eyes, nose or mouth. From there, the virus can enter your body and infect you.

5. Make sure you, and the people around you, follow good respiratory hygiene. This means covering your mouth and nose with your bent elbow or tissue when you cough or sneeze. Then dispose of the used tissue immediately and wash your hands. Why? Droplets spread virus. By following good respiratory hygiene, you protect the people around you from viruses such as cold, flu and COVID-19.
Stay home and self-isolate even with minor symptoms such as cough, headache, mild fever, until you recover. Have someone bring you supplies. If you need to leave your house, wear a mask to avoid infecting others. Why? Avoiding contact with others will protect them from possible COVID-19 and other viruses.

6. If you have a fever, cough and difficulty breathing, seek medical attention, but call by telephone in advance if possible and follow the directions of your local health authority. Why? National and local authorities will have the most up to date information on the situation in your area. Calling in advance will allow your health care provider to quickly direct you to the right health facility. This will also protect you and help prevent spread of viruses and other infections.

7. Keep up to date on the latest information from trusted sources, such as WHO or your local and national health authorities. Why? Local and national authorities are best placed to advise on what people in your area should be doing to protect themselves.

Acknowledgement:

Coronavirus disease (COVID-19) advice for the public given by
World Health Organization (WHO)

"Kaho Naa Pyaar Hai"
Lyrics: Ibrahim Ashq
Singer: Udit Narayan, Alka Yagnik 
Directed, Produced, Written by Rakesh Roshan

"Carona Virus Hai"
Concept Development & Lyrics: Debraj Mitra
Singer: Debraj Mitra
Directed by: Subhajit Laha & Abhirup De
Produced by: Box Office Club & Heritage Kolkata Pujo Walks

#CoronaVirus #SafetyMeasures #Lockdown #IndiaFightsCorona

Sunday, May 31, 2020

"𝗥𝗔𝗗𝗜𝗢" - A Sci-fi short film | A Film By 𝐒𝐮𝐛𝐡𝐚𝐣𝐢𝐭 𝐋𝐚𝐡𝐚

RADIO | A Sci-fi Short Film | 𝗪𝗼𝗿𝗹𝗱 𝗗𝗶𝗴𝗶𝘁𝗮𝗹 𝗣𝗿𝗲𝗺𝗶𝗲𝗿𝗲 | A Film By 𝐒𝐮𝐛𝐡𝐚𝐣𝐢𝐭 𝐋𝐚𝐡𝐚

Thursday, May 28, 2020

"𝗥𝗔𝗗𝗜𝗢" - A Sci-fi short film releasing soon | 𝗪𝗼𝗿𝗹𝗱 𝗗𝗶𝗴𝗶𝘁𝗮𝗹 𝗣𝗿𝗲𝗺𝗶𝗲𝗿𝗲


"𝗥𝗔𝗗𝗜𝗢" - A Sci-fi short film - Poster
"𝗥𝗔𝗗𝗜𝗢" - A Sci-fi short film - Poster


আমাদের পরবর্তী নিবেদন লীলা মজুমদারের ছোটগল্প 'পেটেন্ট' অবলম্বনে রেডিও
"𝗥𝗔𝗗𝗜𝗢" - A Sci-fi short film releasing soon | 𝗪𝗼𝗿𝗹𝗱 𝗗𝗶𝗴𝗶𝘁𝗮𝗹 𝗣𝗿𝗲𝗺𝗶𝗲𝗿𝗲
Releasing on 31st May 2020 at 7pm

Directed By: 𝐒𝐮𝐛𝐡𝐚𝐣𝐢𝐭 𝐋𝐚𝐡𝐚

Cast: Subhajit Laha, Adrija Ghosh, Sudip Das & Koyel Das

Social Media Partner: Heritage Kolkata Pujo Walks (https://www.facebook.com/HeritageKolkataPujoWalks/)

Blog Partner: Parash Pathar (https://parash-pathar.blogspot.com/)

YouTube Partner: Box Office Club (https://www.youtube.com/watch?v=qg3l6ps1-Yo)


#Radio #HeritageKolkataPujoWalks #ParashPathar #BoxOfficeClub

Monday, May 4, 2020

কেদারা সিনেমার সমালোচনা

Kedara | A Film by Indraadip Dasgupta | Poster
কেদারা
পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত

ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। সঙ্গীত পরিচালক, চলচ্চিত্রের গান এবং নেপথ্য সঙ্গীত নির্মাতা। শ্রীজাত। কবি,  একই সঙ্গে বেসিক অ্যালবাম, চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত রচনা করেন। অরিজিৎ সিং। ভারতবিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী, চলচ্চিত্রের সঙ্গীতে নেপথ্য কণ্ঠদাতা। কৌশিক গাঙ্গুলী। চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখিয়ে; সর্বোপরি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক। অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয়তম; একাধিক ‘হিট’ চলচ্চিত্র ও মঞ্চসফল নাটকের মুখ্য চরিত্রাভিনেতা। ধরা যাক, এদের মধ্যে একটা মিউজিকাল চেয়ার খেলা হল। এনারা হলেন খেলোয়াড় আর তাঁদের পরিচয় গুলো হল এক একটি চেয়ার। একরাউণ্ড মিউজিকের পর সব ওলটপালট। ইন্দ্রদীপ বসলেন পরিচালকের চেয়ারে। শ্রীজাত হলেন চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখিয়ে। অরিজিৎ নিলেন নেপথ্য সঙ্গীতের দখল। কৌশিক বসলেন অভিনেতার স্থানে। এবং বাকী নেপথ্য কণ্ঠদাতার চেয়ারের দখল নিলেন অনির্বাণ। ব্যাস, তৈরি হল প্রায় দর্শক সমাদর না পাওয়া এক ধুসর সিনেমার পাণ্ডুলিপি, ‘কেদারা’। কিন্তু এই স্থানবদল এই চলচিত্রের ‘ইউ-এস-পি’ নয়। বরং এমন তথাগতিত বাজার চলতি সিনেমার বাইরে দাঁড়িয়ে, সিনেমার সমস্ত বিভাগের এমন যথার্থ সমন্বয় ‘কেদারা’ কে সুধী চলচিত্রপ্রেমীদের ‘মনে রেখে দেবে’।



Kedara | Official Trailer
সাধনার পথ অনন্ত। শিল্পী সেখানে একা। একান্ত, নিরলস সাধনা। কালক্রমে সেই সাধনাই শিল্পের রূপ নেয়; মহাকাব্যিক হয়ে ওঠে কখনো, কখনো বা হারিয়ে যায় কালের গর্ভে। সেখানে শিল্পই শিল্পীর পরিচয়, আর সেই শিল্পই বিজ্ঞান। এমনই লুপ্তপ্রায় বিজ্ঞানের চর্চা করতেন বৈতংসিক ব্রাহ্মণেরা। রাজরাজারাদের সাথে মৃগয়ায় যেতেন এরা। শোনা যায়, এমনই তাঁদের প্রতিভা যে, তাঁদের নকল পাখির ডাক শুনে বনের পাখিরা এক জায়গায় চলে আসত। আর, তখনই রাজবাণে বধ হতো তারা। এনারই পরে হরবোলা বলে পরিচিত হন। হরবোলা, হরেক বোল তুলতে পারদর্শী যিনি। শুধু বাঘ, হাতি, বা ঘোড়া নয়, মানুষের কণ্ঠেরও হুবহু নকল করতে পারতেন এঁরা। গল্পের চরিত্র নরসিংহ এমনই এক হরবোলা। যিনি একান্তে সাধনা করেন। চরিত্রের একাকীত্ব, কথা বলার ধরণ, এক শিশুর চোখে পৃথিবীদর্শন এবং গল্পের গতির সাথে চরিত্রের পরিবর্তন এসব অনায়াস দক্ষতায়ে ফুটিয়ে তোলেন কৌশিক। সাবাস। যোগ্য সঙ্গত রুদ্রনীলের। অল্প সময়েও সাবলীল বিদীপ্তা চক্রবর্তী এবং মৌসুমী সান্যাল দাশগুপ্ত। তবে, পাড়ার চায়ের দৃশ্যের অংশগুলি সামগ্রিক সিনেমার সাপেক্ষে বেশ দুর্বল। এছাড়াও বিষয় নির্বাচন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মতও নয়, সামগ্রিক সিনেমা জুড়ে যেন একটা শর্ট বা টেলিফিল্মের মেজাজ। তবুও অসাধারণ সম্পাদনা সিনেমাকে গতিময় রাখে।


এ সিনেমার প্রধান সম্পদ তিনটি, অভিনয়, ক্যামেরা ও সম্পাদনা। আলো এবং চিত্রগ্রহণের অসাধারণ সমীকরণ এ ছবির অনেক না বলা গল্প বলে যায়। কুর্ণিশ শ্রী শুভঙ্কর ভড়। শুধুমাত্র সম্পাদনার গুণ ‘কেদারা’কে তথাকথিত ‘আঁতেল’ ঘরানার বাইরে বেড় করে এনে নিরবিচ্ছিন্ন সুরে বেঁধেছেন। ছোটো ছোটো দৃশ্যান্তর কিম্বা কল্পরাজ্য ভ্রমণ, নিখুঁত সম্পাদনা শ্রী সুজয় দত্ত রায়ের। একেবারে বাস্তবোচিত শব্দ গ্রহণ এবং প্রক্ষেপণে ‘কান’ কেড়েছেন অনির্বাণ সেনগুপ্ত এবং অরিজিৎ সিং। পরিশেষে ধন্যবাদ শ্রী ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তকে, দ্য ক্যাপ্টেন ওব দ্য শিপ। নিপুণ নাবিক তিনি। অনেক দূরপথ পাড়ি দেবার শুভেচ্ছা রইলো, ক্যাপ্টেন। বাংলা দর্শক না হোক, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘কেদারা’ আপন স্থান ঠিকই দখল করে রাখবে।

শুভজিৎ লাহা  (slaha666@gmail.com)




Friday, April 24, 2020

"𝐓𝐇𝐄 𝐌𝐈𝐃𝐃𝐋𝐄 𝐂𝐋𝐀𝐒𝐒" - Short Film | A Film By 𝐒𝐮𝐛𝐡𝐚𝐣𝐢𝐭 𝐋𝐚𝐡𝐚



𝐓𝐇𝐄 𝐌𝐈𝐃𝐃𝐋𝐄 𝐂𝐋𝐀𝐒𝐒 | A crippling lockdown | Short Film | A Film By 𝐒𝐮𝐛𝐡𝐚𝐣𝐢𝐭 𝐋𝐚𝐡𝐚

Synopsis: 
A crippling lockdown. Unprecedented restraints on the movement and employment of 1.3 billion people in the country. Udash, a middle-class person, who despite being needy, prefers not to ask for any help from others. A film on a few moments of the life of Udash. 

Our Facebook partner link:



Our YouTube partner Link:



Our Blog partner link:

Send Your Valuable Feedback:
𝐒𝐮𝐛𝐡𝐚𝐣𝐢𝐭 𝐋𝐚𝐡𝐚 (slaha666@gmail.com)
#Lockdown #HeritageKolkataPujoWalks #ParashPathar #BoxOfficeClub

Wednesday, April 22, 2020

"𝐓𝐇𝐄 𝐌𝐈𝐃𝐃𝐋𝐄 𝐂𝐋𝐀𝐒𝐒" - a no-budget short film releasing soon


"𝐓𝐇𝐄 𝐌𝐈𝐃𝐃𝐋𝐄 𝐂𝐋𝐀𝐒𝐒" - a no-budget short film : Poster

A crippling lockdown. A film on few moments of the life of a middle-class person.
"𝐓𝐇𝐄 𝐌𝐈𝐃𝐃𝐋𝐄 𝐂𝐋𝐀𝐒𝐒" - a no-budget short film releasing soon....


Directed By: 𝐒𝐮𝐛𝐡𝐚𝐣𝐢𝐭 𝐋𝐚𝐡𝐚

Social Media Partner: Heritage Kolkata Pujo Walks (https://www.facebook.com/HeritageKolkataPujoWalks/)

Blog Partner: Parash Pathar (https://parash-pathar.blogspot.com/)

YouTube Partner: Box Office Club (https://www.youtube.com/watch?v=qg3l6ps1-Yo)


#Lockdown #HeritageKolkataPujoWalks #ParashPathar #BoxOfficeClub

জোড়াসাঁকো নরসিংহ দাঁ-র বাড়ির পুজো



‘বানিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’। বাঙালীর এই প্রবাদ অক্ষরে অক্ষরে প্রত্যক্ষ করা যায় বনেদি ও জমিদার বাড়ির পুজো পরিক্রমায়ে। ১৭, ১৮ শতকে যে সব বাঙ্গালিই ব্যবসায় সফল হয়েছিলেন তাঁর প্রায় প্রত্যেকেই বাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। জোড়াসাঁকোর দুই দাঁ বাড়ি; শিবকৃষ্ণ ও নরসিংহ দাঁ-র বাড়ি গেলে অতিত ঐশ্বর্যের মৃদু আভার আন্দাজ পাওয়া যায়। আগেই বলেছি, প্রবাদ আছে মা গহনা পড়েন জোড়াসাঁকোর দাঁ বাড়িতে, কুমোরটুলির মিত্র বাড়িতে দ্বি-প্রাহরিক আহার সারেন, আর নৃত্যগীত উপভোগ করেন শোভাবাজারের রাজবাড়িতে। দুই দুঁদে ব্যবসায়ী বাঙালীর বাড়ির পুজো প্রত্যক্ষ না করতে পারলে কলকাতার সাবেকি পুজোদর্শন কখনই সম্পূর্ণ হয় না।






২০ এ বিবেকানন্দ রোড, কলকাতা- ৬। রাস্তার ওপর লালরঙা বাড়ি। পরিচয় বন্দুক বিক্রেতার বাড়ি। এ বাড়ির দুর্গাপুজো বন্দুকবাড়ির দুর্গাপুজো বলে খ্যাত। উত্তাল ভারতে যখন ইংরেজদের রাজ। তখন তাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে বন্দুকের ব্যবসায় নাম কাড়েন নরসিংহ দাঁ। প্রথমে রিসড়া, পরে কলকাতায়ে কারখানার স্থানান্তর ঘটে। ১৮৫৯-এ এই পুজোর সূচনা হয়। সূচনা করেন নন্দলাল দাঁ। এখনো ঠাকুরদালানে এসে দাঁড়ালে দাঁ বাড়ির পূর্ব ঐতিহ্যকে অনুভব করা যায়। ঠাকুরদালানের লাগোয়া দেওয়ালে পূর্বপুরুষদের তৈলচিত্র, হরেক রকম বন্দুকের স্পেসিমেনের ছবি আপনাকে তাক লাগিয়ে দেবে। তবে দাঁয়েদের প্রথা মেনে এপুজোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ দেবীর অঙ্গসজ্জা। হরেক বনেদি গহনা এমন সম্ভার অনেক মিউজিয়ামের সম্পদকেও হেলায় হার মানাতে পারে। হার মানা হারের এই লিস্টে কি নেই? আছে সীতাহার, সাতনরী, ললন্তিকা চেন আরও কতও কি। আজনুলম্বিত সেই সব গহনা ছাড়াও আছে সোনার চাঁদমালা, মুকুট, টায়রা, টিকলি, চুড়, চুড়ি, বাউটি, মানতাসা।




জোড়াসাঁকোর দুই দাঁ বাড়ির পুজোই তাঁর সমস্ত রীতিনীতি মেনেচলে আজও। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যে কারনে এই সাবেকি পুজোর ইতিহাস এত দৃঢ়, সেই চালচিত্রের সোনার গহনা, মানিক্য খচিত দেবীর কাপড়, অঙ্গসজ্জা, পূজোর নিয়ম নীতি, ভোগ পরসাদ এই সবকিছু আজও একইভাবে প্রাসঙ্গিক, ও অমলিন তাঁদের উত্তরপুরুষদের হাত ধরে।



শুভজিৎ লাহা  (slaha666@gmail.com)

জোড়াসাঁকো শিবকৃষ্ণ দাঁ-র বাড়ির পুজো



‘বানিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’। বাঙালীর এই প্রবাদ অক্ষরে অক্ষরে প্রত্যক্ষ করা যায় বনেদি ও জমিদার বাড়ির পুজো পরিক্রমায়ে। ১৭, ১৮ শতকে যে সব বাঙ্গালিই ব্যবসায় সফল হয়েছিলেন তাঁর প্রায় প্রত্যেকেই বাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন। জোড়াসাঁকোর দুই দাঁ বাড়ি; শিবকৃষ্ণ ও নরসিংহ দাঁ-র বাড়ি গেলে অতিত ঐশ্বর্যের মৃদু আভার আন্দাজ পাওয়া যায়। আগেই বলেছি, প্রবাদ আছে মা গহনা পড়েন জোড়াসাঁকোর দাঁ বাড়িতে, কুমোরটুলির মিত্র বাড়িতে দ্বি-প্রাহরিক আহার সারেন, আর নৃত্যগীত উপভোগ করেন শোভাবাজারের রাজবাড়িতে। দুই দুঁদে ব্যবসায়ী বাঙালীর বাড়ির পুজো প্রত্যক্ষ না করতে পারলে কলকাতার সাবেকি পুজোদর্শন কখনই সম্পূর্ণ হয় না।






“ডাক রাং অভর চিকমিক ঝিকমিক করে।

তায় সোনালি রুপালি চুমকি বসান আলো করে।” (হু প্যা ন)

কালো, মোটা, বেঁটেখাটো শিবকৃষ্ণ সারাক্ষণ ভরি খানেক সোনার গহনা পড়ে থাকতেন। আচমকাই এক দিন সকালে কি মনে হল, শিবকৃষ্ণ ভাবলেন দেবী দুর্গা কেও এভাবেই সাজাবেন। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। সম্ভবত জার্মানি থেকে এসেছিল স্বর্ণ-মানিক্য খচিত ভেলভেটের মেরুন শাড়ী। আর এ শুধু মায়ের জন্য নয়, তার চার ছেলে, মহিসাসুর এমনকি দেবীবাহন সিংহের জন্যও একই ব্যবস্থা। বিদেশ থেকে আনা ‘মেটালিক’ স্বর্ণালী পাতে সাজানো হয় একচালায়। আনুমানিক ১৫০ বছর ধরে প্রত্যেক বছরে এই একই ভেলভেটের শাড়ীতে সেজে ওঠেন দাঁ বাড়ির ‘কন্যা’ দুর্গা। ১৮৪০ সালে সাতগাছিয়ার ব্যবসায়ী গোকুলচন্দ্র দাঁ, তাঁর আত্মীয়ের পুত্র ৪ বছরের শিবকৃষ্ণ দত্তকে পোশ্যপুত্র রূপে গ্রহণ করে কলকাতায়ে আসেন এবং এই বাড়ি ও দুর্গাপুজোর পত্তন করেন। পরে এই পুজো শিবকৃষ্ণ দাঁর বাড়িরপুজো রূপে বিখ্যাত হয়। শিবকৃষ্ণর রেলের লাইন নির্মাণের কাজে বেশ উন্নতি করেন এবং তাঁর সময় থেকেই পুজোর জাঁক বাড়ে ১২এ শিবকৃষ্ণ দাঁ লেনে। বাড়ির পুজো এখনো সনাতনী রীতিনীতি মেনে পালন করা হয়। রথযাত্রার দিন কাঠামো পুজো করা হয়। আগে শাল কাঠে বানানো হত দেবীর কাঠামো এখন গরান কাঠে বানানো হয় দেবীর অস্থি। সন্ধিপুজোয় মেনে চলা হয় এক বিশেষ রীতি। অধরলালের বাড়ির পুজোয় নারীরা থাকেন সামনে, তেমনি এবাড়ির পুজোয় তাঁরা থাকেন নেপথ্য। সন্ধিপুজোর সমস্ত কাজ সামনে থেকে, সঙ্গে থেকে পরিচালনা করে বাড়ির পুরুষেরা, বাড়ির ছেলে, জামাই সকলে। আর পাঁচটা জমিদার বাড়ির মতো এবাড়ির বৈঠকখানাও এখনো যেন সেই ১৮০ বছর আগেকার ইংরেজ আমলেই আটকে আছে। বৈঠকখানার দেওয়ালও জড়িয়ে রয়েছে এক আশ্চর্য প্রাচীন বৈশিষ্ট্য। এবাড়ির বৈঠকখানার দেওয়াল এক দর্শনে সাধারণ মনে হলেও আদতে তা কিন্তু পুরু ধাতব পাতের তৈরি।






শুভজিৎ লাহা  (slaha666@gmail.com)

অধরলাল সেনের বাড়ির পুজো


In front of Adhar Lal Sen House

কুমোরটুলি পার্ক থেকে আহিরীটোলা সার্বজনীন। আরও একটা গলিপথের শর্টকাট। ভিড় ছেড়ে যদি একটু দাঁড়াতে চান তবে পৌঁছে যেতে পারেন ৯৬ ও ৯৭ বি বেনিয়াটোলা স্ট্রীটে।
৯৬বি এই বাড়ির পুজোর প্রবর্তন করেন রামগোপাল সেন। ইনি পরম বৈষ্ণব ও ধনী ব্যবসায়ী ছিলেন। আদি বাড়ি হুগলী জেলার সিঙুরে। রামগোপালের চার ছেলে; শ্যামলাল, মন্মথনাথ, কমলকৃষ্ণ এবং অধরলাল। সাবেকি বাড়ির এই পুজোয় প্রথম থেকেই নারীরা সর্বময়ী কর্ত্রী। পুজোয় দিন, আরতির সময় পৌঁছলে, দেখতে পাবেন সনাতনী গহনা ও পোশাকে সজ্জিত বাড়ির মেয়েদের কাঁসর ঘণ্টা বাজানো থেকে চামর দুলিয়ে বাতাস করা পর্যন্ত যাবতীয় কাজকর্মে। রামগোপাল বেশ আধুনিক মানুষ ছিলেন। বাড়ির ছেলেদের ইংরাজি শিক্ষা, মেয়েদের পরদা ছেড়ে পুজোয় পুজোর আনন্দে একসাথে মেলানর কাজটি তিনি সেরে ফেলেছিলেন বহু বছর আগে। তাইতো এ বাড়ির মহিলারা পুজোয় সাজানো থেকে শুরু করে সমস্ত কাজ প্রায় একা হাতে সামলান। এখানে দেবীকে রান্নাভোগ দেবার রীতি নেই। দেবী পুজো পান শুকনো চাল ও অন্যান্য ফলের ভোগেই।



Main Entrance
Plaque

এর ঠিক পাশেই, ৯৭বি, ‘অধরালয়’, অধরলাল সেনের নিজের বাড়ি। এখানে পুজো শুরু সেই ১৮৫৫ সাল থেকে। কথিত আছে, ১৮৮৩ ও ৮৪ এ ঠাকুর এই দুই বাটিতেই পুজো দেখতে এসেছিলেন। সেই স্মৃতি অমলিন রাখতে বাড়ির দেওয়ালে খচিত আছে, “শ্রীরামকৃষ্ণ পদাঙ্কিত ভক্ত অধরলাল সেনের বাড়ি”। এই বাড়ির পুজো আগের বাড়ির অনুরূপ। পুজোর চার দিন নিরামিষ ভোগ হলেও, নিয়মকরে দশমীর দিন আমিষ রান্না হয় এ বাড়িতে। তবে আমিষ শুধু বাড়ির ছেলেদের জন্য।


Durga mandap

Thakurdalan

Corridor

অধরলাল ডেপুটি ম্যজিস্টেট ছিলেন। সেই সুত্রে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র এসেছিলেন এই বাড়িতে।

সাহিত্যসম্রাট নামে    পরিচিত বঙ্গভুমে
অধরের সতীর্থ একজন।
চাটুজ্যে বঙ্কিমচন্দ্র    মিতভাষী নম্রভদ্র
এখানে প্রভুর আলাপন।।
ঈষৎ প্রগলভ কথা   প্রানে তাঁর দিল ব্যথা
মৃদু তিরস্কার বানী তাই।
শোধন করিয়া দিল   মনে যত ভ্রান্তি ছিল
বেনিয়াটোলার এই ঠাই।।

ঠাকুরের সাথে এসেছিলেন স্বামীজিও। সেকালের বনেদি পুজ মানেই নাচ, গান, বাজনা, আড্ডা সবকিছু মিলিয়ে একটা গ্র্যান্ড উৎসব। একবার পুজোয় স্বামীজিকে গান গাইবার অনুরধ করা হয়। শোনা যায় নাকি ২৭ গান গাইয়ে তবে থামতে দেওয়া হয়েছিল সেকালের নরেন দত্তকে।

শ্রীযুক্ত অধরসেন     বহুভাগ্য করেছেন
ভগবান এই গৃহে এল।
অন্তরঙ্গ সমাগমে     নৃত্যগীত উদ্দামে
আনন্দ উৎসব কত হল।।



Entrance Gate

ইতিহাস বিস্মৃত এই বাড়ি, “অধরালয়”, যার নামে সেই অধরলাল সেন ছিলেন একাধারে ঠাকুর রামকৃষ্ণের পরম স্নেহধন্য ও প্রতিভাধর এক পুরুষ। মাত্র উনিশ বছরে লিকে ফেলেছিলেন দু-দুটি বই। ২৪এ ডেপুটি ম্যজিস্টেট হন। মাত্র তিরিশ বছর বয়সে ঘোড়া থেকে পরে গিয়ে অকালে মারা যান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা বিভাগের এই ‘মেম্বার অফ ফ্যাকাল্টি’।

“বিধির বিধান এই   রুধিবে মানুষ কই
প্রাণ গেল অশ্ম চরিবারে।।
শ্রীরামকৃষ্ণ পদধুলি    ধন্যগৃহাঙ্গন গুলি
এ আলয় তীর্থের সমান।
কথামৃতে কথিত কত  শ্রীপ্রভুর লীলাযত
সুমধুর হরি গুনগান।।“





শুভজিৎ লাহা  (slaha666@gmail.com)


শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো, বড় ও ছোট পক্ষ

Sovabazar Rajbari

কলকাতার প্রথম দুর্গাপুজো কোনটি?

উত্তর যদি সাবর্ণ রায়চৌধুরীর বাড়ির পুজো হয় তবে সেটি ভুল। ১৬৯৮ সালে ইংরেজরা তিনটি গ্রাম, গোবিন্দপুর, সুতানুটি ও কলকাতা সাবর্ণদের থেকে অধিগ্রহণ করেন। আর সাবর্ণ রায়চৌধুরীর আটচালার পুজোর পত্তন হয় ১৬১০এ। সেদিক থেকে দেখতে গেলে ‘আধুনিক’ কলকাতার থেকেও প্রাচীন এই সাবেকি পুজো। অতএব?




উত্তর জানতে হলে ফিরে যেতে হবে ১৭৫৬-এ। মসনদে তখন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদউল্লা। কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তখন জমিয়ে দুর্গাপুজো করছেন। রাজা লড়লেন নবাবের বিরুদ্ধে জগতশেঠের বন্ধু হয়ে মীরজাফরের পক্ষে। ১৭৬০ মসনদে এলেন মিরকাসিম, মীরজাফরের জামাই। সন্দেহভাজন মিরকাসিম প্রথমে জগতশেঠকে হত্যা করলেন, পরে জেলে পুরলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে। ইংরেজ সরকারের মধ্যস্থতায়ে সেবার ছাড়া পেলেন রাজা, তবে তত দিনে দুর্গোৎসব শেষ। রাজা স্বপ্নাদেশ পেলেন। সেই থেকে কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর শুরু। তত দিনে শহর কলকাতার পসার শুরু হয়ে গেছে। ইংরেজদের উদ্যোগে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের অনুকরণে, বার্ষিক উৎসবের মত শুরু হয়েছে জমিদার ও রাজবাড়ির দুর্গোৎসব। এব্যাপারে পথিকৃৎ ছিলেন শোভাবাজারের রাজা নবকৃষ্ণ দেব। ১৭৫৭-এ পলাশীর যুদ্ধের পর প্রথম কলকাতায় পুজো হয় শোভাবাজার রাজবাড়িতে, এখনকার ৩৪ ডি রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রীটে। ভাইপো গোপীমোহন কে পোশ্য নিয়ে এবাড়ির পুজো শুরু করেন রাজা নবকৃষ্ণ। পরে নিজের ছেলে রাজকৃষ্ণের জন্মের পর রাস্তার দক্ষিণে নতুন বাড়ি নিয়ে উঠে যান ৩৩ রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রীটে।



পুরনো রাজবাড়িতে গোপীমোহন বাড়ির কুলপুজোর সুচনা করেন। শ্রী শ্রী গোপীমোহন জিউ আজও বাড়ির ঠাকুর ঘরে নিত্য পূজা পান। মেদিনীপুর থেকে শিল্পীরা আসেন; মিষ্টির ভিয়েন বসে। আগে, গোপীমোহনের সময়ে ৫০-৬০ রকমের মিষ্টি বানানো হত। এখন তা কমে ২০ টি পদে এসে দাড়িয়েছে। এখানে দেবী কন্যা রুপে পুজো পান। ডাকের সাজে সাজানো হয় একচালার এই দেবী প্রতিমাকে। শোনা যায়ে, দেবেরাই প্রথম জার্মানি থেকে রূপোর পাতের সাজ আনাতেন দেবীর আভরনের জন্য; ডাকে করে এই সাজ আসত বলে এর নাম ছিল ডাকের সাজ। এখনো দেবী এখানে অন্য কোন সাজে সজ্জিতা নন, শুধুমাত্র ডাকের সাজ ছাড়া। গোপীমোহনের এই বাড়িতে এক সময় কাশ্মীর, বার্মা (মায়ানমার) থেকে সুন্দরী নর্তকীরা আসতেন। সং আসত। নানান রকমের খেল দেখাত তাঁরা। রনপা-য় চেপে নাচা, কাঁচের বোতল চেবানো, আরও কত কি! সাহেবরা সস্ত্রীক আসতেন সে রঙ্গ উপভোগ করতে। গভীর রাতে সাহেবরা চলে গেলে খাওয়াদাওয়ার পর আবার বসত তাদের আসর। তবে তা চলত সদর দরজা বন্ধ করে। এক ইংরেজ তাঁর কলকাতার পুজ দেখার অভিজ্ঞতায়ে লিখেছিলেন, “রাতে সে বাড়িতে দরজা বন্ধ করে সঙেরা সাহেব-মেম দের নকল করে দেখাত; আর তাই দেখে বাড়ির মেয়ে বউরা আহ্লাদে লুটোপুটি খেত”। খাওয়া-দাওয়া, আমোদ উৎসবে কেটে যেত পুজর চারটি দিন। সন্ধিপুজোর সময় এককালে কামান দাগা হত, সেই রীতি মেনে এখনও ব্ল্যাংক ফায়্যার করা হয় অষ্টমী ও নবমীর সান্ধ্যক্ষণে। নীলকণ্ঠ পাখি উড়িয়ে কৈলাসে দেবীকে ফেরানোর বার্তা পাঠানো হত। সেই প্রাচিন রীতির আদলে, নীলকণ্ঠ পাখির মূর্তি গড়ে তাঁতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন শোভাবাজারের ঠাকুরমশাই। দশমীর দিনে দেবীর সাথে বিসর্জনে যায়ে একজোড়া নীলকণ্ঠ পাখির মূর্তি। লর্ড ক্লাইভের দেওয়ান নবকৃষ্ণ রাজাবাহাদুর উপাধি পান। নিয়ম অনুযায়ি সাত হাজার অস্মারোহী সেনা রাখতে পারতেন এই উপাধিধারিরা। বিয়ের সময় এ নিয়ে কন্যাপক্ষ তাঁকে মস্করা করায়ে ফোট উইলিয়াম থেকে চার হাজার সেনা ভাড়া করে খানাকুলে বিয়ে করতে যান রাজাবাহাদুর রাজা নবকৃষ্ণ।







৩৩র রাজা নবকৃষ্ণ ষ্ট্রীটের বাড়িটির ইতিহাস আরও ঝলমলে। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও নাচের খুব কদর করতে জানতেন এই রাজবাড়ি। কথিত আছে মা গহনা পড়েন জোড়াসাঁকোর দাঁ বাড়িতে, কুমোরটুলির মিত্র বাড়িতে দ্বি-প্রাহরিক আহার সারেন, আর নৃত্যগীত উপভোগ করেন শোভাবাজারের রাজবাড়িতে। কে আসেননি এই বাড়িতে? লর্ড ক্লাইভ, ওয়ারেন হেস্তিংস, রবীন্দ্রনাথ প্রমুখরা। এন্টোনি ফিরিঙ্গী আর ভোলা ময়রার ঐতিহাসিক কবির লড়াইয়ের সাক্ষী ছিল এই বাড়ি। শিকাগো থেকে ফিরে এখানেই প্রথম বক্তৃতা দেন স্বামী বিবেকানন্দ, সে কিন্তু বাংলায়ে নয়; খাস রাজভাষা ইংরাজিতে। পুজোর সময়ে কলকাতার কয়েকশো বনেদি ও রাজবাড়ির মধ্যে এখানেই ভিড় হয় সবচেয়ে বেশী। এখনো সিংহ দরজার সামনে দাঁড়ানো প্রতিকি কামান, পুজোর ভোগ রান্নার ঘ্রাণ, দোতলার ঘরথেকে ভেসে আসা , মায়ের সনাতনী একচালার প্রতিমা আপনাকে মনে করিয়ে দেবে দাপুটে বাংলার অম্লান অতিত। সঙ্গীতের চর্চা দেববাড়িতে চিরন্তন। আজকের যুগের সঙ্গীত পরিচালক রাজা রাজনারায়ান দেব এই বাড়িরই ইতিহাসকে সস্মমানে বহন করছেন।












শুভজিৎ লাহা  (slaha666@gmail.com)