![]() |
| Kedara | A Film by Indraadip Dasgupta | Poster |
কেদারা
পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত।
ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। সঙ্গীত পরিচালক, চলচ্চিত্রের গান এবং নেপথ্য সঙ্গীত নির্মাতা। শ্রীজাত। কবি, একই সঙ্গে বেসিক অ্যালবাম, চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত রচনা করেন। অরিজিৎ সিং। ভারতবিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী, চলচ্চিত্রের সঙ্গীতে নেপথ্য কণ্ঠদাতা। কৌশিক গাঙ্গুলী। চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখিয়ে; সর্বোপরি জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক। অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয়তম; একাধিক ‘হিট’ চলচ্চিত্র ও মঞ্চসফল নাটকের মুখ্য চরিত্রাভিনেতা। ধরা যাক, এদের মধ্যে একটা মিউজিকাল চেয়ার খেলা হল। এনারা হলেন খেলোয়াড় আর তাঁদের পরিচয় গুলো হল এক একটি চেয়ার। একরাউণ্ড মিউজিকের পর সব ওলটপালট। ইন্দ্রদীপ বসলেন পরিচালকের চেয়ারে। শ্রীজাত হলেন চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখিয়ে। অরিজিৎ নিলেন নেপথ্য সঙ্গীতের দখল। কৌশিক বসলেন অভিনেতার স্থানে। এবং বাকী নেপথ্য কণ্ঠদাতার চেয়ারের দখল নিলেন অনির্বাণ। ব্যাস, তৈরি হল প্রায় দর্শক সমাদর না পাওয়া এক ধুসর সিনেমার পাণ্ডুলিপি, ‘কেদারা’। কিন্তু এই স্থানবদল এই চলচিত্রের ‘ইউ-এস-পি’ নয়। বরং এমন তথাগতিত বাজার চলতি সিনেমার বাইরে দাঁড়িয়ে, সিনেমার সমস্ত বিভাগের এমন যথার্থ সমন্বয় ‘কেদারা’ কে সুধী চলচিত্রপ্রেমীদের ‘মনে রেখে দেবে’।
Kedara | Official Trailer
সাধনার পথ অনন্ত। শিল্পী সেখানে একা। একান্ত, নিরলস সাধনা। কালক্রমে সেই সাধনাই শিল্পের রূপ নেয়; মহাকাব্যিক হয়ে ওঠে কখনো, কখনো বা হারিয়ে যায় কালের গর্ভে। সেখানে শিল্পই শিল্পীর পরিচয়, আর সেই শিল্পই বিজ্ঞান। এমনই লুপ্তপ্রায় বিজ্ঞানের চর্চা করতেন বৈতংসিক ব্রাহ্মণেরা। রাজরাজারাদের সাথে মৃগয়ায় যেতেন এরা। শোনা যায়, এমনই তাঁদের প্রতিভা যে, তাঁদের নকল পাখির ডাক শুনে বনের পাখিরা এক জায়গায় চলে আসত। আর, তখনই রাজবাণে বধ হতো তারা। এনারই পরে হরবোলা বলে পরিচিত হন। হরবোলা, হরেক বোল তুলতে পারদর্শী যিনি। শুধু বাঘ, হাতি, বা ঘোড়া নয়, মানুষের কণ্ঠেরও হুবহু নকল করতে পারতেন এঁরা। গল্পের চরিত্র নরসিংহ এমনই এক হরবোলা। যিনি একান্তে সাধনা করেন। চরিত্রের একাকীত্ব, কথা বলার ধরণ, এক শিশুর চোখে পৃথিবীদর্শন এবং গল্পের গতির সাথে চরিত্রের পরিবর্তন এসব অনায়াস দক্ষতায়ে ফুটিয়ে তোলেন কৌশিক। সাবাস। যোগ্য সঙ্গত রুদ্রনীলের। অল্প সময়েও সাবলীল বিদীপ্তা চক্রবর্তী এবং মৌসুমী সান্যাল দাশগুপ্ত। তবে, পাড়ার চায়ের দৃশ্যের অংশগুলি সামগ্রিক সিনেমার সাপেক্ষে বেশ দুর্বল। এছাড়াও বিষয় নির্বাচন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মতও নয়, সামগ্রিক সিনেমা জুড়ে যেন একটা শর্ট বা টেলিফিল্মের মেজাজ। তবুও অসাধারণ সম্পাদনা সিনেমাকে গতিময় রাখে।
এ সিনেমার প্রধান সম্পদ তিনটি, অভিনয়, ক্যামেরা ও সম্পাদনা। আলো এবং চিত্রগ্রহণের অসাধারণ সমীকরণ এ ছবির অনেক না বলা গল্প বলে যায়। কুর্ণিশ শ্রী শুভঙ্কর ভড়। শুধুমাত্র সম্পাদনার গুণ ‘কেদারা’কে তথাকথিত ‘আঁতেল’ ঘরানার বাইরে বেড় করে এনে নিরবিচ্ছিন্ন সুরে বেঁধেছেন। ছোটো ছোটো দৃশ্যান্তর কিম্বা কল্পরাজ্য ভ্রমণ, নিখুঁত সম্পাদনা শ্রী সুজয় দত্ত রায়ের। একেবারে বাস্তবোচিত শব্দ গ্রহণ এবং প্রক্ষেপণে ‘কান’ কেড়েছেন অনির্বাণ সেনগুপ্ত এবং অরিজিৎ সিং। পরিশেষে ধন্যবাদ শ্রী ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তকে, দ্য ক্যাপ্টেন ওব দ্য শিপ। নিপুণ নাবিক তিনি। অনেক দূরপথ পাড়ি দেবার শুভেচ্ছা রইলো, ক্যাপ্টেন। বাংলা দর্শক না হোক, বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ‘কেদারা’ আপন স্থান ঠিকই দখল করে রাখবে।
- শুভজিৎ লাহা (slaha666@gmail.com)
- শুভজিৎ লাহা (slaha666@gmail.com)


No comments:
Post a Comment