“কলকাতায় কুমোরটুলি এখানে কৃপার ঝুলি
ঢেলে দিল ভগবান।
রামকৃষ্ণ অবতার জীবোদ্ধারে আসা তাঁর
দেবদেহে দৈবরোগ ভান।।
গঙ্গাপ্রসাদ সেন কবিরাজি করিতেন
এই ভদ্রাসনে বসি।
দেশবিদেশের রুগী রাজা প্রজা ফিরিঙ্গী
গৃহে তাঁর জুটিতেন আসি।।“
 |
| Sri Ramakrishna & Kabiraj Ganga Prasad Sen |
উত্তর কলকাতার পুজো-পরিক্রমা করতে গিয়ে যদি কুমোরটুলি সার্বজনীন থেকে শর্টকাটে কুমোরটুলি পার্কের দিকে যান তবে কিছুতা এগিয়ে বাঁ-হাতে পরবে কবিরাজ গঙ্গাপ্রসাদ লেন। এই গঙ্গাপ্রসাদ লেনের উল্টো দিকের রাস্তা দিয়ে সোজা এগিয়ে গেলে একেবারে পথের শেষ প্রান্তে ১৭ কুমোরটুলি ষ্ট্রীট; কবিরাজ গঙ্গাপ্রসাদ সেনের বাড়ি।
 |
| Entrance Gate |
এখন প্রশ্ন হল কে এই গঙ্গাপ্রসাদ সেন?
এক কথার উত্তর হল, ইনি শ্রীরামকৃষ্ণর চিকিৎসক যিনি প্রথম সনাক্ত করেন ঠাকুরের ক্যান্সার হয়েছে। আর যদি দু কথায়ে বলতে হয় তবে ফিরে যেতে হবে পুরবঙ্গে, আজকের বাংলাদেশে।
১৭ শতকে ঢাকার প্রসিদ্ধ চিকিৎসক ছিলেন কবিরাজ নীলাম্বর সেন। পরে পরিবার নিয়ে কলকাতার কুমোরটুলিতে উঠে আসেন তাঁরা। ছেলে গঙ্গাপ্রসাদ এখানেই তাঁর কবিরাজি শুরু করেন। দিনে দিনে তাঁর খ্যাতি বাবাকেও ছারিয়ে যায়। দেশ বিদেশের সাধারণ মানুষ, রাজা-উজির, এমনকি সাহেবরাও এই গঙ্গাপ্রসাদের শরণাপন্ন হয়েছেন।
 |
| Entrance |
পুজোর সময় ঠাকুর দেখতে বেড়িয়ে যদি কুমোরটুলির গলিতে পথ হারিয়ে ফেলেন, তবে একবার ঢুঁ মারতেই পারেন এই ধনন্তরির বাড়িতে। কিছুক্ষণ জিরিয়ে নিতে পারেন থমকে যাওয়া এই কবিরাজ বাড়ির ‘ডিশপেন্সারি’তে। তবে ফেরারপথে শ্বেতপাথরের ফলকটা পরতে ভুলবেন না যেন।
“গঙ্গা সেন ধনন্তরী পার করে তাঁর তরী
ভবসাগরের কাণ্ডারি।
রোগী দেখে বুঝিলেন লীলাময় খেলিছেন
পুণ্যস্মৃতিধন্য এই বাড়ি।।”
 |
| Marble Plaque |
- শুভজিৎ লাহা (slaha666@gmail.com)